শনিবার, ২৪ জুলাই ২০২১, ০৩:৫২ অপরাহ্ন

পুরুষ ও নারীর মধ্যে পার্থক্যসমূহ

প্রশাসন / ৪৫ বার পঠিত
সময়: রবিবার, ২৩ মে, ২০২১, ১০:১০ অপরাহ্ণ

সংবাদটি শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

১- শারীরিক গঠনের ক্ষেত্রে :

সাধারণভাবে পুরুষরা হচ্ছে বৃহৎ গড়নের আর নারীরা হচ্ছে ক্ষুদ্র গড়নের , পুরুষেরা অপেক্ষাকৃত লম্বা আর নারীরা খাট । পুরুষের শরীর সুঠাম আর নারীর শরীর কোমল । পুরুষের কণ্ঠস্বর মোটা আর নারীরর কণ্ঠস্বর হচ্ছে মোলায়েম । নারীদের শরীরের বৃদ্ধি দ্রুত হয় কিন্তু পুরুষের শরীরের বৃদ্ধি হয় ধীরে । এমনকি মায়ের গর্ভে কন্যা শিশু , ছেলে শিশুর থেকে দ্রুত বৃদ্ধি পায় । নারীদের শরীরিক শক্তির থেকে পুরুষের শারীরিক শক্তি বেশী । তবে অসুস্থতার ক্ষেত্রে পুরুষের থেকে নারীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বেশী । নারীরা পুরুষের আগেই বালেগ (বয়ঃপ্রাপ্ত) হয় এবং পুরুষের অনেক আগেই তারা সন্তান জন্মদান ক্ষমতা হারায় । কন্যা সন্তান ছেলে সন্তানের আগে কথা বলতে শিখে । মধ্যম আকারের পুরুষের মগজ একজন মধ্যম আকারের নারীর মগজের থেকে বড় । পুরুষের ফুসফুস নারীর ফুসফুসের থেকে বেশী হাওয়া ধারন করে । পুরুষের হৃদ-স্পন্দন থেকে নারীর হৃদ-স্পন্দনের গতি দ্রুত ।

২- মানসিক দিক থেকে :

শিকার করা এবং অনেক কঠিন কাজ করার নেশা নারীদের থেকে পুরুষের অনেক বেশী । পুরুষেরা যুদ্ধ ও প্রতিরোধ করার মন মানসিকতা সম্পন্ন কিন্তু নারীরা সব সময় সন্ধি ও শান্তির পক্ষে । পুরুষেরা একটুখানি রুক্ষ স্বভাবের কিন্তু নারীরা হচ্ছে নরম স্বভাবের । নারীরা সাধারণত অপরের সাথে বিবাদ করতে অপছন্দ করে আর এ কারণেই তাদের মধ্যে আত্মহত্যা করার প্রবণতা অতিমাত্রায় কম । আত্মহত্যার ক্ষেত্রেও পুরুষ নারীর থেকে অনেক নিষ্ঠুর প্রকৃতির , কেননা পুরুষ আত্মহত্যা করলে নিজেকে গুলি করে অথবা গলায় দড়ি দিয়ে অথবা ছাদের উপর থেকে নিচে পড়ে গিয়ে আত্মহত্যা করে কিন্তু নারীরা আত্মহত্যা করলে বিষ খেয়ে অথবা ঘুমের বড়ি খেয়ে আত্মহত্যা করে ।

মহিলারা পুরুষদের থেকে অধিক মাত্রায় আবেগপ্রবণ ও অনুভূতিশীল অর্থাৎ যে বিষয়টি নারীদের অধিক পছন্দনীয় অথবা ভয় পায় সে বিষয়টি তার সামনে আসলেই দ্রূত গতিতে তার আবেগ প্রকাশ করে কিন্তু এসব ক্ষেত্রে পুরুষ অধিক শান্তও স্থির প্রকৃতির । মহিলারা প্রকৃতিগত কারণেই পুরুষের থেকে অধিকমাত্রায় গহনা , সাজ-গোজ , দামী পোশাক ইত্যাদি পছন্দ করে । নারীদের আবেগে অধিকাংশ ক্ষেত্রে কোন যুক্তি খুঁজে পাওয়া যায় না , কিন্তু পুরুষের তার উল্টো । মহিলারা পুরুষের থেকে অধিক ধর্মভীরু , অধিক সাবধানতা অবলম্বনকারী , অধিক কথা বলে , অধিক ভীতু ও অধিক আনুষ্ঠানিকতার ভাব সম্পন্ন । নারীর আবেগ হচ্ছে মায়ের আবেগ , আর এই আবেগ তারা সেই ছোট বেলা থেকেই অর্জন করে থাকে । পরিবারের প্রতি নারীদের ভালবাসা ও সামাজিক এ প্রতিষ্ঠানের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেয়ার বৈশিষ্ট্যটি তাদের মধ্যে পুরুষের থেকে অধিক । মহিলারা সাধারণত যুক্তিভিত্তিক জ্ঞানের দিকে বিশেষ আকর্ষণ অনুভব করে না তবে কাব্য , উপন্যাস , অংকন প্রভৃতি ক্ষেত্রে পুরুষের থেকে কোন অংশে কম নয় । পুরুষেরা মহিলাদের থেকে অধিক পরিমানে গোপন কথা এবং দুঃখকে নিজেদের বুকে চেপে রাখতে পারে । মহিলারা পুরুষের থেকে অধিক নরম হওয়ায় দ্রুত কেঁদে ফেলে এবং অজ্ঞানও হয়ে পড়ে ।

৩- অন্যান্য আবেগের দৃষ্টিতে :

পুরুষেরা কামনার দাস কিন্তু নারীরা পুরুষের ভালবাসার অপেক্ষায় থাকে । পুরুষ এমন নারীকে পছন্দ করে , যে তাকে পছন্দ করবে । আর নারী এমন পুরুষকে পছন্দ করে , যে তার মূল্যকে বুঝবে ও মর্যাদাকে অনুভব করবে এবং যে তার ভালবাসাকে পূর্বেই প্রকাশ করে দিবে । পুরুষ সাধারণত জোর করেই নারীর উপর কর্তৃত্ব অর্জন করতে চায় কিন্তু নারী পুরুষের অন্তর জয় করার মাধ্যমে তার উপর কর্তৃত্ব করতে চায় । মহিলারা চায় তার স্বামী যেন সাহসী হয় আর পুরুষ চায় তার স্ত্রী যেন সুন্দরী হয় । নারী পুরুষের সাহায্যকে এক অমূল্য সম্পদ বলে মনে করে থাকে । নারী পুরুষের থেকেও তার কামভাবের উপর অধিক কর্তৃত্বশীল হয়ে থাকে , পুরুষের কামভাব হচ্ছে প্রাথমিক পর্যায়ের এবং আক্রমণাত্মক কিন্তু নারীর কামভাব হচ্ছে প্রতিক্রিয়া ও উস্কানীমূলক ।৬২

শেষ কথা :

যা কিছু উপরে উল্লেখ করা হয়েছে , তা থেকে আমরা এটা বুঝতে সক্ষম হয়েছি যে ,

প্রথমতঃ পুরুষ ও নারীর মধ্যে যে পার্থক্য বিদ্যমান তা আল্লাহ প্রদত্ত আয়াতসমূহে বর্ণিত হয়েছে যা এ গ্রন্থেও তৌহিদী ব্যবস্থায় নারী শীর্ষক আলোচনাতে বর্ণিত হয়েছে ।

দ্বিতীয়তঃ পুরুষ ও নারীর মধ্যে যে বৈবাহিক সম্পর্কের সৃষ্টি হয় তা শুধুমাত্র দৈহিক চাহিদার কারণেই নয় । কেননা যদি দৈহিক চাহিদার কারণেই এই সম্পর্কের সৃষ্টি হতো তাহলে অবশ্যই পরিবারের বন্ধনসমূহ কিছু দিন পরেই শেষ হয়ে যেত । অতএব পুরুষ ও নারীর বন্ধনের প্রকৃত কারণ যেটা সেটা হচ্ছে এই দৈহিক চাহিদার থেকেও অন্য কিছু , আর তা সমস্ত সৃষ্টির সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তা ’ য়ালা তাঁর আসমানী কিতাবে বর্ণনা করেছেন যে :

) وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُم مِّنْ أَنفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِّتَسْكُنُوا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُم مَّوَدَّةً وَرَ‌حْمَةً(

আল্লাহর অন্যতম (নিদর্শন) হচ্ছে এই যে , তোমাদের মধ্যে থেকে তোমাদের স্ত্রীগণকে সৃষ্টি করেছেন যাতে করে তোমরা প্রশান্তি অনুভব কর এবং তোমাদের মধ্যে ভালবাসা ও রহমতকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন ।৬৩

সুতরাং যে বৈশিষ্ট্যটি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বন্ধনকে দৃঢ় করে তার ভিত্তি হচ্ছে ফিতরাত যা আল্লাহ তা ’ য়ালা তাদের উভয়ের মধ্যে দিয়েছেন । আর ঐ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে ভালবাসা ও পারস্পরিক রহমত।


সংবাদটি শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও সংবাদ

ফেসবুকে আমরা

Theme Customized By Theme Park BD